বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন
ভারতে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ফুড ডেলিভারির কাজ বেছে নিচ্ছে গ্র্যাজুয়েটরা। আজ বুধবার (৩০ আগস্ট) দিল্লির আর্থিক গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব অ্যাপ্লায়েড ইকোনমিক রিসার্চের একটি সমীক্ষায় এ তথ্য ওঠে এসেছে।
ভারতের ২৮টি শহরের ফুড ডেলিভারি কর্মীদের নিয়ে সমীক্ষাটি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলে চেপে বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দেওয়া ফুড ডেলিভারি কর্মীদের ১০০ জনের মধ্যে অন্তত ৩২ জনই গ্র্যাজুয়েট। কিন্তু মানুষের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিলেও তারা নিজেদের পেট চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর কারণ মূল্যবৃদ্ধি ও পেট্রোল-ডিজেলের দাম। ফলে দিনে ১১ ঘণ্টা কাজ করলেও আয়ের পুরোটাই খরচ হয়ে যাচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, ফুড ডেলিভারি কর্মী হিসেবে যারা কাজ করছেন, তাদের ৬৭ শতাংশ আগের তুলনায় অতিরিক্ত রোজগারের আশায় এই কাজে যোগ দিয়েছেন। সপ্তাহে ছয় দিন কমপক্ষে ১১ ঘণ্টা করে কাজ করার পরেও তাদের মাসিক গড় আয় মাত্র ২০ হাজার ৭৪৪ রুপি।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২১-২২-এর শ্রমিক সমীক্ষায় (পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে) বলা হয়েছিল, এই শ্রেণির কর্মীদের গড় মাসিক আয় ২২ হাজার রুপির বেশি। ফুড ডেলিভারি কর্মীদের আয় সেই তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ কম।
সম্প্রতি রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার ডেলিভারি কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষায় আইন এনেছে। কর্নাটকে নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধী ডেলিভারি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
ন্যাশনাল কাউন্সিল অব অ্যাপ্লায়েড ইকোনমিক রিসার্চের অধ্যাপিকা বর্ণালী ভান্ডারি বলেন, সমীক্ষা অনুযায়ী ফুড ডেলিভারি কর্মীদের জন্য দুর্ঘটনা বিমা থাকলেও স্বাস্থ্য বিমা নেই। মাত্র ১২ শতাংশ কর্মীর কাছে আয়ুষ্মান ভারতের কার্ড রয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিমার কার্ড রয়েছে ১১ শতাংশ কর্মীর।
একমাত্র পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্রপ্রদেশে প্রায় সবার কাছেই রাজ্যের স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্পের কার্ড রয়েছে। সাধারণত বেসরকারি কর্মীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ফুড ডেলিভারি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয় কাজের হিসাবে। তারা কেউই সবেতন ছুটি বা পেনশন পান না।
সমীক্ষায় ফুড ডেলিভারি কর্মীদের ৩১ শতাংশ জানিয়েছেন, প্রায় চার মাস বসে থাকার পরে তারা এই কাজ বেছে নিয়েছেন। ৯ শতাংশ কর্মী কাজ হারিয়ে এই কাজ করছেন। আর প্রায় ২৪ শতাংশ কর্মী প্রথম কাজ হিসেবে এই কাজ করছেন। তাদের মধ্যে ৮৮ শতাংশই এখনও পড়াশোনা করছেন।